Saturday, June 08, 2019

আরে ফুটবল

আরে ফুটবল!
তোমারে যদি খেলা যেত মায়ান বা আজটেক
বা আমাদের শ্মশানে শর্মার মতন, অথবা 
গেন্ডুয়া ব্রহ্মপপুত্রের ধারে,
তিনসুকিয়ায়। কাঁটাতার-সীমানা পেরিয়ে তবে আমরাও
সুন্দরবন বনাম হিমালয় গেমে, দুটো গোল সেধে সেধে খেয়ে আসি।

জুন ২২, ২০১৮

Monday, May 13, 2019

অসমাপ্ত ফটোগ্রাফ


একটা ছবি তোলার আয়োজন হচ্ছিল
আমরা সবাই দাড়িয়ে-বসে-হেসে নানা ভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলাম,
এক উৎসবের রাত ছিল, তার মাঝে আরেকটা  
উৎসব যেন। ধারের ক্যামেরা তৈরি ছিল, ভিউপয়েন্টে দুদণ্ডের দৈবাতে ছবিটা আর তোলা হয়নি-


তারপর থেকে অনেক অনেক দিন পর, এই আজকে এসে দেখি, না তোলা ছবিটাই টিকে গেছে কবিতার মতো...


পঁচিশ বছর আগের ছবি না তুলতে পারার দুঃখে ঘুমিয়ে যাওয়া শিশুটি আজও নিদ্রা যায়, আরও অনেক ছবি তার তোলা হয়ে ওঠে না।


কিন্তু সে জেনে গেছে, ক্যামেরার দৈবাৎ, নিদ্রার ভান, ... আজকের এই ছবিগুলি... হয়ত পঁচিশ বছর পর...আবার ছবি হবে।     


Wednesday, November 21, 2018

তোমাকে সর্বশেষ দেখেছিলাম

চব্বিশ প্রহরের অবিরতি অলক্ষিতে,
বিষ্ণুপ্রিয়ার আঁচল হতে খসে খসে পড়া সংসারের মায়ামধু,
রথচক্র পিষ্ট, মাঘের সকালের অনাঘ্রাত শিশির কনা ততদিনে
আগাছার বনের আগুনে উবে গেছে সার যোগাতে জীবনের,
বনমাঝে সন্ন্যাসী ঈশ্বরপুরী
খুঁজিতেছে বিশ্রাম
বহু অবহেলায়
যদি পাওয়া যায়
তোমাকে যে সর্বশেষ দেখেছিলাম কোথায়...

Tuesday, May 08, 2018

লেখার ইতিহাস



নিকান্দুনির চোখের জল লাগবে লক্ষ্মণ কে বাঁচাতে। নিকান্দুনি নিকষা কোথায়? হাইছ! বাল্মীকির কি সাধ্য ছিল ঘরের হাইছ এ নিকষা কে বসিয়ে রাখে? এই সাফল্য বাংলার রামায়ন গাতকের। লিখিত পৃথিবীর ইতিহাসে কে কখন শর্তারোপ করেছে, যে নিকষা লংকাপুরীর সাজানো কিচেনে বসে পানের বাটা থেকে পান নেয়া অবস্থায় হনুমান আক্রান্ত হবেন? পশ্চিম আফ্রিকার মান্ডিদের মধ্যেও সেই একই আচার। ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিনের বংশধরের গুনগান আফ্রিকান মান্ডি আর রঘুবংশের গান করা বাংলার গাতকের মধ্যে ভাবে, কর্মে, রসে খুব পার্থক্য নেই।

বইয়ের রিভিউ তে ফেরা যাক। এই বইটার গুড রিডস রিভিউ তে একজন এক তারা দিয়েছেন। আমি দিয়েছি পাঁচ। কারণ ইংরেজী পড়তে আমার অনেক কষ্ট হয়, এত কষ্ট করে পড়েছি, আমার পড়াকেই পাঁচ তারা (আসলে কষ্ট হলে পড়ে শেষ করতে পারতাম না)। যিনি একতারা দিয়েছেন, তার রিভিউ তে উনি যে কারণে বইটা পড়তে পারেন নি সেটার উল্লেখ করেছেন, এমন আমারও হয়। অরওয়েলের এনিম্যাল ফার্মও আমি একসময় পড়তে পারিনি। ধৈর্যশক্তি বাড়ার পরে পেরেছি। যাই হোক। ভারতীয় ব্রাহ্মী লিপির উদ্ভব কবে থেকে এরকম একটা ব্যাপারে লেখকের উল্লেখ নিয়ে রিভিউয়ারের আপত্তি। আমি উইকিপিডিয়া থেকে মেলালাম। খুব বেশি আপত্তি করলাম না, যদিও আমিও খানিকটা চমকে গিয়েছিলাম।

আর কি? লেখকের নিজস্ব ভ্রমণ সাহিত্যের ইতিহাসে। খানিকটা ভূগোল। খুব অবাক লাগে মাঝে মাঝে, পৃথিবীটা কেন গোল হলো সেটা ভেবে। ঘূর্ণনের জটিল বা সরল ব্যাখ্যা তো আছেই। এই যে নানান দিকে মানুষ আছে, তাদের একটা সমতল পাতের দুই দিকে বা কিউবের ছয় দিকে রেখে ঠিক যেন সাম্যাবস্থা হয় না। কিসব বলছি! বইটা পড়েন।   

Monday, April 30, 2018

সাধুসঙ্গ

ইহা একটি ফটোব্লগ, কথা কম, ছবি বেশি!
ইদ্রাকপুর কেল্লার ভিতরে। মুন্সিগঞ্জ সদর। গুলিস্তান থেকে দীঘির পাড়ের বাসে উঠে, সদর, সেখান থেকে অটো করে ৫-১০ টাকায় পুরান কাচারি। দেয়াল উচু, গেট বন্ধ।অগত্যা বেয়ে পার হয়ে যেতে হলো।
ইদ্রাকপুর কেল্লার সিড়ি। তেমন কিছু নেই, একটা সুরঙ্গ মতন আছে, এই আর কি! কোন এক কালে নদী পাহারা দেয়ার জন্য তৈরী। এখন উপর থেকে আর নদী দেখা যায় না। মোক্তারপুর ব্রিজ পার হবার সময় অসংখ্য চিমনি দেখা যায় রাইস মিলগুলির। বাংলায় ধান সিদ্ধ করার কল। 



দীঘির পাড়ের বাস থেকে ভালো সমাধান, ট্রেন বা বাসে চাষাড়া বা ফতুল্লা গিয়ে, সেখান থেকে সিএনজি নেয়া। সময় বাঁচবে, টাকা একটু বেশি খরচ হবে। মুশকিল হল গেন্ডারিয়া থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত বাস রাস্তা এপ্রিল ২০১৮, এই সময়ে জঘন্য ছিল। আমরা মুন্সিগঞ্জ ঘাটে, পোয়ামাছ আর গরুর মাংস দিয়ে দারুন খাওয়া দাওয়া করেছিলাম, দেখলাম ভালোই সময় আছে, মোক্তারপুর ব্রিজ থেকে রিজার্ভ অটো নিলাম, প্রথম বজ্রযোগিনী, এর পরে সিরাজদীখান, ৩৫০ টাকা চাইলো। এই ছবিটা অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞানের জন্মভিটায়। সেখানে এক ভিক্ষু সন্ধান দিলেন, বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহার দেখে যেতে।
বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহার, বজ্রযোগিনী গ্রাম। দারুন সে গ্রাম, মাছরাঙ্গা, ভুট্টা, শসা ক্ষেতে দেখে দেখে পৌছে গেলাম সেখানে, অল্প ধ্বংসাবশেষ আছে। সংস্কার করা হয়েছে, জাবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাজ।

এটা এমনি, বসার জায়গা। নতুন করে একটা ঘর বানানো আছে, এগুলি মনে হয় দর্শনার্থীদের জন্য। 

সিরাজদীখান বাজারে মিষ্টি দারুন। মা ক্ষীর ভান্ডার! সেখান থেকে অটো নিয়ে রামানন্দ গোরস্তান। তার পাশ দিয়ে ক্ষেতের আইল ধরে এই ঘাটে। পদ্মহেমের ঘাট। আইসা পড়ছি। কি দারুন শান্তির জায়গা।
তিলের ক্ষেত, পদ্মহেমের পাশে। আমি শুরুতে ভেবেছিলাম কালিজিরা। একটা দুইতলা কাঠের ঘর, মুন্সীগঞ্জের সমগ্র এলাকার বৈশিষ্ট্য বোধ করি। ক্ষেতের ঐপারে একটা মসজিদ আছে।

আখড়ার উপরে এমন কৃষ্ণচূড়া, প্রকৃত চূড়াই। আমরা ততক্ষণে অধিবাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। বাউল তরিকার ব্যাপার স্যাপার, বৈষ্ণবদের সাথে মিল আছে, এখানকার প্রবীন গুরু নিরামিষ ভোজী, বেশ!

মেলার মাঠে। আমরা এসে বেশ একটা সাঁতার দিলাম, পাশের নদীর অল্প জলে। জল স্বচ্ছ, শীতল, কাঁদা একটু কম আর জল আরো বেশি হলে, আনন্দ অনেক গুণ হতো, তবু যাই হলো তা কম নয়, দুয়েক জায়গায় গলা জল, অঠাঁইও পাওয়া গেল। 

সূর্যাস্তের সময়। আমরা বেশ খানিক সময় এখানে বসেই কাটালাম দীপুর অপেক্ষায়। এর মধ্যে ঢাকা থেকে আসা তরুনেরা, যারা ঠিক বাউল তরিকার না, আবার আমাদের মতন শুধু ঘুরতে আসেনি, এরা গিটার বাঁশি সহযোগে বাদ্য বাজনা করলো। সুন্দর পরিবেশ বাদ্য বাজনার জন্য। আযান শুরু হইতে, মেলা থেকে কয়েকজন বোরকা পড়া মহিলা এসে বাদ্য-বাজনা আযানের দোহাইয়ে থামাইতে বললেন।

মাঠখানা।খুবই সুন্দর তার ঘাস। সন্ধার পরে ভেবেছিলাম, এখানেই বসে থাকা যাবে। তা হয়নি, প্রচন্ড শিশির পরে, সব ভিজে একাকার। 

সন্ধ্যার গান আরম্ভ হলো। শুরু করলেন প্রবীন গুরু।একে একে অন্যরা, মাঝে শফি মন্ডল, শেষে আনন্দনগর। সাউন্ড সিস্টেম কিছু গোলমাল ছিল, আর ভয়ানক উপস্থাপিকা, ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, বিকেলে অধিবাসের সময়ও ছিলেন। 

আনন্দনগর যতক্ষণে গাইতে আরম্ভ করেছে,ততক্ষণে আমরা মঞ্চে, গান গাইতে নয়। বটগাছে হেলান দিতে। শফি মন্ডল আর আনন্দনগর মোটামুটি পচা সাউন্ড সিস্টেম একটু ঠিক ঠাক করে নিয়েছিল। আনন্দনগর হলো জলের গান থেকে রাহুল আনন্দ কে বাদ দিয়ে সাথে কবির হোসেন ফাউ। খমক, দোতারা আর ভোকার ভালৈ।  

সকালে পায়ে হেটে বালুচর। সেখান থেকে ট্রলারে ফতুল্লা। রাতের বাদশাহ ভোগ আর ক্ষীরসার পরে ভোর রাতে খিচুরী সেবা। সকালে কি আনন্দে বাইর হইলাম, আহা, অল্প একটু ঘুমও হয়েছিল।

ট্রলারে ফতুল্লা। অনেক গুলি ইন্টার পরিক্ষার্থী ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাস - এই ধরণের একটা পরীক্ষা হবে।

আহার, মস্তক ও কর্ণ। রাতে যেখানে ঘুম হইল। 

Saturday, April 14, 2018

কোথাও কোন পরিবর্তন নেই আর


তিন

ফিলিপিনী ক্রীতদাসী
পাললিক গৃহবধু ব’নে।
স্বর্ণ-তোরণ সেতু
সবুজ সেতু – ব্রিসবেন নদী
কোন কিছু রইবে না টিকে তার
এক মিশরীয় পিরামিড চূড়া
ধূসর বালুর নিচে, রাশমোর পর্বত
কৃষ্ণকায় কয়লার স্তূপ;
যত মানব সৃষ্ট আকর
পূর্বী নদীতে ধ্বসে যাবার আগে-
সৈকতের জলের বালুর মতো ধুয়ে যাবে,
শামীয়-রোমক-য়্যুরোপীয় শৌর্য-শির।


এই এক আক্ষেপ
‘হায়’ প্রশান্ত জলাশয়!
ছোট ছোট গুচ্ছগ্রাম, আরণ্যক প্রশান্তি
বিস্তীর্ণ মরুর বুকে
আমার পূর্বপুরুষের বসতি
শিকার আর ঘুম বাদে, মাতাল ঘুম
এর বাদে শিখে নাই কিছু-চাষবাস।
নৌকার গলুই-সাতঁরে মহাদেশ
জানেনা সেসব কবেকার-
শুধু জানে, স্বপ্নের মাঝে ডাকে তারে সমুদ্র
বলে “ফিরে আয়”, লোনা জল মেখে ঘেমে ফিরে আসে
নিজের বিছানায়, বালিশের কাছে একটু ভেজা-
কোথাও কোন পরিবর্তন নেই আর।


সুপার মার্কেট ফেরত গৃহবধু
ওজন কমাতে দৌড়োচ্ছে প্রতিদিন
উত্তরা ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠের চারিধার।
প্রেমিকার লিপস্টিক মুছে গেলে ভাবে
‘ঐ বুঝি দেখে কেউ’!
এখানে থামতে হবে-
নয়ত শনিবার বিকেলে পাব-রেস্তোরা থেকে
সোজা বেডরুমে-
ছাড়, খ্রিস্টিয় জন্মদিনের ছাড়।



চার 



বেণুবনে একা কাঁদে হাঁস, শামুকের
শ্বাসরোধ হয়, ধ্রুব সাঁতরাচ্ছিলেন
একা- লোকায়ত/লোকোত্তরে,
পরামিলে সাংখ্যজাতিকা, ঐশ্বরিক
ঈর্ষাবায়ুর হলকায় দ্বীপান্তরে
যাচ্ছে পুড়ে কুটিরশিল্প সংগ্রহশালা!



ধীবর অঙ্গে আঁকা হলো ব্যাসরেখা
বোর্হেসের গ্রন্থাগারে আঁতি-পাতি
আগে-পরে ব্যাখ্যা হাজার, গোলাপের
নাম খুন, পাথর বিবর্তনে হয়
কাঠ, ডিম ভেঙ্গে তেড়ে আসে
প্লাটিপাস, নির্ভার মায়ের কোল-
তুই দিবি দুর্গা? কাফের তবে
সন্ধান করুক মুসলমানের লাশ!



শ্রীকৃষ্ণ নাকি হলধর? এই করে
কাটালে শৈশব, সহস্র-ফণা-নাগ আর
মৃগয়া ভ্রমে শর বিঁধে মরলো মানুষ।
পালাবে কোথায়? ফেরাও, তোমাতেই
অহল্যার সমূহ সর্বনাশ, লেজ ধরে
পার হবে পুলসিরাত/বৈতরণী?
উপনিষদে গাভী ছিল। ণ-ত্ব বিধান
অপেক্ষা শ্রেয় জিহবা আর নাভীমূলে
উচ্চারণ! মহৎ সে কিতাবের সারাংশে
ভুল নেই, আছে মানুষের কথা
ভেড়া আর ঈগলের উপাখ্যান, আর
যত স্বৈরাচারী শালিকের জয়গান।



মা গো, তুমি ই তো বলেছিলে
আমার মৃত্যু হবে না, তবে কেন
গঙ্গায় ছুঁড়ে দিলে? আমি তো
জানিনা সাঁতার।ডুব দেবো, মুক্তাপরীর
দেশে যাবো, ঝিনুকের বুকে
হবো বালির অন্তরাল, কেঁদো না।

Wednesday, July 19, 2017

জীবমিথু

সকাল থেকেই বেশ একটা অনুভূতি টের পেলাম। কিন্তু কোন একটা নাম দিতে পারছি না। বেশ একটা বিষাদ, কিন্তু পুরোপুরি বিষাদ না, বিষাদের মধ্যেই কেমন নির্লিপ্তি এসে জুড়েছে। এইটুকু বলাও যথেষ্ট হলো না। আমি কিন্তু জোর দিচ্ছি ঘুম থেক উঠার পর, দিনের শুরুর, ঠিক দশটা সাইত্রিশ মিনিট বিশ সেকেন্ডের দিকে শুরু হওয়া অনুভূতিটার দিকে। এমন না যে জোর করে গত ঘণ্টা দুয়েকের অনুভূতির সারাংশ করছি। সময় টার কথা বললাম ভয়ে ভয়ে, শব্দপ্রত্নের লোকেরা খুঁজে বের করবে, গত রাতে ঘুমোতে দেরি হবার কথা, তারপর সেটার থেকে বিষাদ, নির্লিপ্তির সাথে ক্লান্তিও জুড়ে দিতে পারে। সমারূঢ় অধ্যাপকেরা। "বিষাদের মধ্যেই ... নির্লিপ্তি" - এর কি মানে? এই যে শব্দগুলি, এরা আগে থেকেই বেশ কিছু মানে নিয়ে আছে, সেগুলির সাথে মিলিয়ে কি ঠিক ঠাক বোঝা যাচ্ছে? আরো কিছু শব্দের সাহায্য নেয়া যায়, বেশ একটা কর্মচাঞ্চল্যও আছে, সিসিফাসও চলে আসছে বিষাদের সাথে তবে প্রবল নয়। বরং পাহাড়ে উঠতে শুরু করে যে নির্লিপ্তি, তেমন হয়ত। এখন আমি আরো অনেকগুলি শব্দও ব্যাবহার করে ফেলেছি। হয়ত আরো একচল্লিশ হাজার শব্দ ব্যাবহার করে একটা পুঁথিও তৈরি করে ফেলা যাবে, এখনকার শব্দগুলিকে নিয়ে, যেগুলি আমি প্রায়ই ব্যাবহার করি, কিন্তু বিশ্বাস করেন, তাতে এই অনুভূতিটার প্রতি অন্যায়ই হবে। এ যে একেবারে অনন্য, অন্তত অভুতপূর্ব এই হৃদয়ের কাছে। পাল্টা প্রশ্ন হতে পারে, নাম দেয়ারই বা কি দরকার? এই জায়গাটায় এসে অনুভূতি টা একটু ফিকে হয়ে যায়, চুড়ার সিসিফাসের বিষাদ আক্রান্ত করতে চায়, তাই এই প্রশ্নটাকে এড়িয়ে যাই। যা হোক। আপনাদের বেশি সময় নিয়ে ফেলছি, একটা নাম প্রস্তাব করিঃ এই অনুভূতিটার নাম দিলাম, "জীবমিথু" ভাব। এখন, আরেকটা পুরাতন সমস্যা, "জীবমিথু" শব্দটিকে আপনাদের মধ্যে চালাতে হলে, ঐ বিষাদ, নির্লিপ্তি, ক্লান্তি এবং এরকম আরো অনেকগুলি বিশেষ্য, ক্রিয়া, সর্বনাম, অব্যয়ের সাহায্য প্রয়োজন হবে। "জীবমিথু" হয়ত তখন আপনাদের পরিচিত কোন অনুভূতি হিসেবে মূর্ত হবে। হয়ত হবে না।