বৈরুতের পরিত্যাক্ত থিয়েটারে
আমারও একটা আসন আছে
কখনো ভুলে যাই,
আবার চট করে শেষ অংকটা মনে পড়ে ...
এর কারণ একটাই
গোটা নাটকটাই লেখা হয়েছে দুর্বল হাতে...
সমগ্রটাই বিশৃঙ্খলা
যুদ্ধদিনের হতাশার মতো
দর্শকের প্রৈতিজাত এক
আত্মজীবনী। কুশীলবরা
সকলে চিত্রনাট্য ছিঁড়ে ফেলে
দর্শকের মধ্যে নাট্যকারের খোঁজ করছিল
আমরা যার যার আসনে বসে
পাশের শিল্পীকে আমি জিজ্ঞেস করলামঃ
তুমি না লিখে থাকলে অস্ত্র বের করো না, অপেক্ষা করো!
-না
সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি লিখেছ নাকি?
-না
আমরা বসে থাকলাম, মনে ভয়
বললাম, নিরপেক্ষ নায়কের ভূমিকায়
অবধারিত নিয়তি থেকে বাঁচা যেতে পারে
সে বলে, কোনও নায়ক দ্বিতীয় অংকে
সম্মানজনক মৃত্যুবরন করে না। বাকীটা
দেখতে চাই। হয়ত কোনো একটা অংক
একটু সংশোধন করে দেবো। হয়ত এই লৌহ বেড়ি
আমাদের ভাইদের যে দশা করেছে
তার কিছু হলেও লাঘব হবে।
আমি বললাম, তুমিই তাহলে লিখেছ?
সে উত্তর দিল, তুমি আর আমি
মুখোশধারী দুই নাট্যকার দুই দর্শক
আমি বললাম, না আমার কী আসে যায়?
আমি তো দর্শক শুধু
সে জানালো, খাদের কিনারায় কোন দর্শক নেই...
আর এখানে কেউই নিরপেক্ষ নয়
তোমাকে অবশ্যই নিজের জন্য চরিত্র নির্বাচন করতে হবে
বললাম, আমি শুরুটা হারিয়ে ফেলেছি, শুরুতে যেন কী ছিল?