Wednesday, February 27, 2013

দেলু দালালের ফাঁসি চাই

"এই ব্যাটা জামাতে ইসলামী'র মজলিশে সুরা বা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ১৯৭১ সালে সে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর হয়ে তার নিজের এলাকা পিরোজপুরে সক্রিয় ভুমিকা পালন করে ও পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করে।

১৯৭১ এ তার সাথে কোন রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা ছিল না, কিন্তু নিজের "মৌলানা" পরিচয়ের সুবিধা নিয়ে সে আকাম-কুকাম করে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে হত্যা-লুট-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছে।যুদ্ধের সময়, তার চার সহযোগীকে নিয়ে পাঁচ জনের কুখ্যাত দল গঠন করে। এই দলের মূল কাজ ছিল মুক্তিবাহিনীর সদস্য ও হিন্দুদের সম্পত্তি ও বাড়িঘর লুট ও দখল করা। ঐসব লুটের মাল বিক্রি করে সে লাভজনক ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল।

মুক্তিযোদ্ধা মিজান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তানি বাহিনীরকে প্রত্যক্ষ মদদ দেয়। সে নিজে পিরোজপুরের পারের হাট এলাকার হিন্দু বাড়িঘর লুট করে। মদন নামের এক হিন্দু দোকানির দোকান থেকে নিজে গিয়ে সমস্ত মালপত্র নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। সায়েববাজার হাট থেকে এই সব লুটের মালপত্র দিয়ে সাইদী নিজেই দোকান খুলে বসে ফেরিঘাটের কাছে। লোকেরা এখনো সাইদীর এইসব কুকামের কথা ভোলে নি।

পিরোজপুরের এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাইদী স্থানীয় হিন্দু বিপদ সাহার বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল করে, এবং গত সময় ধরে সেখানেই বাস করতে থাকে।সাইদী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরী করত এবং সেই তালিকা আশেপাশের পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে প্রদান করত। তিনি আরো বলেন, আশেপাশের গ্রামগুলি থেকে অল্প বয়সী মেয়েদের কে ধরে ধরে সাইদী পাকিস্তানি ক্যাম্পগুলিতে পাঠাত। পারেরহাট ফেরিঘাটে পাকিস্তানি বাহিনীর বিধ্বংসী হামলার সময় সাইদী মদদদাতা ও পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় যুবকদের ধরে ধরে আল-বদর বাহিনীতে নাম লেখায়, কেউ রাজি না হলে তার ভাগ্যে থাকত 'মৃত্যুদন্ড'।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য ও গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী হায়দার প্রায় একই ধরনের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন জনৈক হিমাংশু বাবুর ভাই ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনকে সাইদীর প্রত্যক্ষ মদদে হত্যা করা হয়। সাইদী আরো হত্যা করে এলাকার মেধাবী ছাত্র গণপতি হালদারকে।

তিনি বলেন, অত্র এলাকার অনেক সমাজকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রনেতার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল সাইদী। যেসব সরকারী কর্মকর্তা বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করছেন বলে সন্দেহ করা হত, তাদের সকলকেই হত্যা করে সাইদী। ভাগুয়াথী নামের একজন যাকে সদেহ করা হয়েছিল মুক্তিবাহিনীর খবর-সংগ্রাহক হিসেবে সাইদী তাকে মোটর সাইকেলের পিছনে বসিয়ে পাঁচ মাইল টেনে নিয়ে যায় যতক্ষণ না তার মৃত্যু ঘটে ।

সাবেক গ্রাম পরিষদের সভাপতি আলাউদ্দিন খান বলেন, অত্র এলাকার ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী গণহত্যার পিছনে ছিল সাইদীর উস্কানি, মদদ ও দিক নির্দেশনা। এছাড়াও খুন ও লুট বিশেষত হিন্দু সম্পত্তি ও বাড়িঘর লুটের অভিযোগ আনেন।

বেনি মাধব সাহার মতে, সাইদী ও তার সহযোগীরা মিলে ইপিআর এর আব্দুল আজিজ কে অপহরণ ও হত্যা করে।এছাড়াও অপহরণের পর হত্যা করে কৃষ্ণকান্ত সাহা, বাণী কান্ত সাহা, তরণী কান্ত শিকদার কে।

সাইদী ও তার সহযোগীরা হরি সাধু ও বিপদ সাহার কন্যাদের উপর অত্যাচার চালায়। স্থানীয় হিন্দু তালুকদার পরিবারের ঘরবাড়ি লুটের পর সেখান থেকে প্রায় ২৫ জন রমণীকে অপহরণ করে পাকিস্তান বাহিনীর ক্যাম্পে প্রেরণ করে।

হুমায়ুন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের পিতা সাব-ডিভিশনাল অফিসার ফয়জুর রহমানকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন সুফিয়া হায়দার ও আলী হায়দার খান। তারা বলেন সাইদী ও তার সহযোগীদের সহায়তায় পাক বাহিনী ফয়জুর রহমান কে হত্যা করে এবং তার সহায়-সম্পত্তি লুট করে।"

- এই টুকু ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির স্থাপিত গণ-আদলতের রিপোর্ট থেকে নেয়া। http://goo.gl/LBJ1h

বর্তমান ট্রাইবুন্যালে আনীত অভিযোগগুলি:

অভিযোগ-১:
৪ মে ১৯৭১ সকাল বেলা পিস কমিটির মেম্বার হিসাবে মধ্য মাছিমপুর বাস ষ্ট্যান্ডের পেছনে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য জমায়েত হওয়া ২০ জন বেসামরিক ব্যাক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা।

অভিযোগ-২: 
৪ মে ১৯৭১, মাছিমপুর হিন্দুপাড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে পাকিস্তানী আর্মীদের সহায়তায় লুটপাট করে তাদের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করেন এবং পলায়ন পর অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের মধ্য হতে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে শরত চন্দ্র মন্ডল, বিজয় মিস্ত্রি, উপেন্দ্রনাথ, জগেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, সুরেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, মতিলাল মিস্ত্রি, জগেশ্বর মন্ডল, সুরেশ মন্ডলসহ আরো অজ্ঞাত নামা ৫ জনসহ মোট ১৩ জনকে হত্যা করেন।

অভিযোগ-৩: 
৪ মে ১৯৭১ সালে মাছিমপুর হিন্দুপাড়ায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, হত্যাকান্ডের পর কালিবাড়ি, মাছিমপুর, পালপাড়া, শিকারপুর, রাজারহাট, কুকারপাড়া, ডুমুরতলা, কদমতলা, নবাবপুর, আলমকুঠি, ঢুকিগাতি, পারেরহাট এবং চিংড়াখালী গ্রামে ধর্মীয় কারণে বেসামরিক জনগোষ্ঠির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

অভিযোগ- ৪:
ধোপা বাড়ির নিকটস্ত হিন্দু পাড়া এলজিইডির পেছনে অবস্থিত। ৪ মে ১৯৭১, সাঈদী সাহেব কর্তৃক দেবেন্দ্রনাথ মন্ডল, জগেন্দ্রনাথ মন্ডল, পুলিন বিহারী, মুকুন্দ বালাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-৫: 
৫ মে ১৯৭১ তারিখে সাঈদী সাহেব ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সাঈফ মিজানুর রহমানকে প্রকাশ্য আটকের ঘোষণা দিয়ে হাসপাতালের পিছন হতে মন্নাফের সহায়তায় গ্রেফতার করে আর্মিদের জিপে চড়ে বলেশ্বর নদীর ঘাটে যেয়ে সেখানে এসডিও ভারপ্রাপ্ত আব্দুর রাজ্জাক ও এসডিপিও ফয়জুর রহমান আহমেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-৬: 
৭ মে ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তান আর্মিরা পারের হাটে আসলে সাঈদী সাহেব শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে তাদের স্বাগত জানিয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে পারের হাটের আওয়ামী লীগ নেতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে প্রবেশ করে জৈনিক মাখন লাল সাহার দোকান হতে ২২ সের সোনা ও রুপা লুট করে নেন। 

অভিযোগ-৭ ও ৮: 
৮ মে ১৯৭১ তারিখ বেলা দেড়টার সময় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম খান সেলিমের পুত্র শহিদুল ইসলাম এর বাড়িতে প্রবেশ করে লুটপাট পূর্বক অগ্নি সংযোগ করে সাঈদী সাহেবরা।

৮ মে ১৯৭১, দুপুর ৩টার দিকে পাক সেনাদের নিয়ে মানিক পশারীর বাড়িতে সাঈদী সাহেবের প্রবেশ এবং সেখান থেকে মফিজউদ্দিন ও ইব্রাহিম কুট্টিকে আটক করার পর মানিক পশারীর বাড়িতে লুটপাট ও তার বাড়িতে অগ্নি সংযোগ এবং উল্লেখিত আটক দুই ব্যাক্তিকে নিয়ে এসে পাড়েরহাট বন্দরে ইব্রাহিম কুট্টিকে গুলি করে হত্যা করা এবং মফিজউদ্দিনকে রাজলক্ষী হাইস্কুলের রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সে পালিয়ে আসে।

অভিযোগ-৯:
২ জুন ১৯৭১ সালে সকাল ৯টায় সাঈদী সাহেবের নেতৃত্বে পাক সেনারা নলবুনিয়ায় আবদুল হালিম বাবুলের বাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে। 

অভিযোগ-১০:
সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ১০ নম্বর অভিযোগ হলো- উমদেপুর হিন্দুপাড়ায় প্রবেশ করে ২ জুন ১৯৭১ তারিখে উমদেপুর হিন্দুপাড়ার ২৫টি বাড়ীঘর পুড়িয়ে দিয়ে বিশাবালীকে গুলি করে হত্যা করা। 

অভিযোগ-১১:
২ জুন ১৯৭১, পাক সেনাদের সাথে নিয়ে টেংরাখালী গ্রামের মাহবুবুল আলম হাওরাদারের বাড়িতে গমন এবং তার ভাই আব্দুল মজিদ হাওলাদারকে আটক ও নির্যাতন এবং বাড়িতে র্স্বন অলংকার সহ নগদ টাকা লুট ও ভাঙচুর।

অভিযোগ-১৩:
যুদ্ধ শুরু হওয়ার ২/৩ মাস পরে একদিন পাক সেনাদের সাথে নিয়ে নলবুনিয়া গ্রামের আজহার আলীর বাড়িতে গমন, সেখানে আজহার আলী ও তার ছেলে সাহেব আলীকে নির্যাতনের পর সাহেব আলীকে পিরোজপুরে প্রেরণ এবং সেখানে তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা। 

অভিযোগ-১৪:
যুদ্ধ শেষের দিকের কোন একদিন ৫০/৬০ জন রাজাকারের বাহিনী নিয়ে হোগলাবুনিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গমন, সেখানে মধুসুদন ঘরামীর স্ত্রী শেফালী ঘরামীকে জনৈক রাজাকার কর্তৃক ধর্ষণ ও তাতে বাধা না দেয়া, পরবর্তীতে হোগলাবুনিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়া হিন্দুদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর তাকে যুদ্ধের শেষের দিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। 

অভিযোগ-১২ ও ১৫ 
মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের রাজাকার দল হোগলাবুনিয়া গ্রামের ১৪ জন হিন্দু নাগরিককে ধরে। পাকিস্তানি সেনারা এদের সবাইকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। 

অভিযোগ-১৬: 
যুদ্ধ শেষের দিকের কোন একদিন ১০/১২ জন রাজাকারের বাহিনী নিয়ে পাড়েহাট বাজারের গৌরাঙ্গ সাহার বাড়িতে গমন, সেখানে তার ৩ বোন মহামায়া, অন্নরানী ও কমলা রানীকে আটক করে পিরোজপুরে পাক সেনাদের ক্যাম্পে প্রেরণ এবং সেখানে তাদেরকে ৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষন। 

অভিযোগ-১৭: 
যুদ্ধচলাকালে পাড়েরহাট বাজারের বিপদ সাহার মেয়ে ভানু সাহাকে আরো কিছু রাজাকার সাথে নিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করা।

অভিযোগ-১৮: 
যুদ্ধকালে ভাগীরথী পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে কাজ করতেন। সাঈদী এক দিন খবর দেন, ভাগীরথী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত নানা খবরাখবর দেন। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে হত্যা করে লাশ বলেশ্বর নদে ফেলে দেয়। 

অভিযোগ-১৯: 
যুদ্ধচলাকালে সাঈদী প্রভাব খাটিয়ে পারেরহাটসহ অন্য গ্রামের ১০০-১৫০ জন হিন্দুকে ইসলাম ধর্মে রূপান্তর করে। তাঁদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো।

অভিযোগ-২০:
নভেম্বরের শেষ দিকে সাঈদী খবর পান সাধারণ মানুষ ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে ইন্দুরকানি গ্রামের তালুকদার বাড়িতে আক্রমণ চালায়। ৮৫ জন ব্যক্তিকে আটক করে তাঁদের কাছ থেকে মালামাল কেড়ে নেওয়া হয়। ১০-১২ জন বাদ দিয়ে বাকিদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সূত্র: http://goo.gl/Wjqd4

1 comment:

md abdulla al mamun said...

এই জানোয়ার জামাত শিবির গুলা কোনদিন মানুষ হবেনা।
Humayun Ahmed Books